HMT ঘড়ি, অনেকে আছেন HMT ঘড়ি ব্যবহার করছেন , আসুন জানবো এই ঘরটির ইতিহাস সম্পর্কে-

Smart Update24, By Syed Mosharaf Hossain


 অনেকের মতো আমিও জানতাম যে HMT বন্ধ হয়ে গেছে. কিন্তু ২০১৯  এক পুরোনো বন্ধুর সাথে আবার যোগাযোগ হলো আর ওর থেকে জানতে পারলাম যে HMT এখনো অপারেশনাল


১৯৫০ র দশকে জওহরলাল নেহেরু কে কেউ একটা সুইস ঘড়ি গিফট করে, আর সেটা দেখে তার মনে হয়, আমরা কেন এরম ঘড়ি বানাতে পারিনা যেটা সাধারণ লোকে কিনতে পারবে. সেই ভাবনা র ফলশ্রুতি হলো HMT. HMT র পুরো নাম হলো হিন্দুস্তান মেশিন টুলস. আর HMT কিন্তু শুধু ঘড়ি বানাতো না, HMT র ট্র্যাক্টর এবং আরো প্রোডাক্টস ছিল আর আছে.


HMT র মূল লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের জন্যে আফোর্ডেবল ঘড়ি তৈরি করা, কিন্তু মূল সমস্যা ছিল টেকনোলজি. HMT প্রথমে কন্টাক্ট করে Seiko কে, Seiko পাত্তা দেয়নি. তখন HMT যোগাযোগ করে Citizen এর সাথে, আর CITIZEN রাজি হয় HMT কে টেকনোলজি সাপ্লাই করার জন্যে. HMT থেকে টেকনিসিয়ান রা জাপান এ যায় ট্রেনিং নেওয়ার জন্যে. আর ইন্ডিয়া তে HMT ওয়াচ ডিভিশন এর স্থাপনা হয় ১৯৬১ এ বেঙ্গালুরু তে. HMT এর প্রথম ঘড়ি ছিল জনতা. প্রথমে HMT সিটিজেন এর ক্যালিবার ০২০০ ইম্পোর্ট করে ব্যবহার করতো. কয়েক বছরের মধ্যে HMT নিজের মুভমেন্ট তৈরি করা শুরু করে আর নাম দেয় ০২৩০ মুভমেন্ট. পরে সেটা আপগ্রেড করা হয় সিটিজেন ০২০১ অথবা HMT ০২৩১ মুভমেন্ট.


ধীরে ধীরে HMT প্রচুর পপুলার হয়ে ওঠে আর নতুন নতুন ফ্যাক্টরি স্থাপিত হয়. HMT র টোটাল ৫ টি ফ্যাক্টরি ছিল আর প্রত্যেকটি ফ্যাক্টরি র একটা করে ফ্যাক্টরি কোড ছিল.

১ – বেঙ্গালুরু, ২ – বেঙ্গালুরু,৩ – চিনার (কাশ্মীর),৪ – টুমকুর, ৫ – রানীবাগ


HMT র কেসব্যাক এ একটি নম্বর স্ট্যাম্প করা থাকে, সেটাকে ডিকোড করলে, সেটা কোন ফ্যাক্টরি তে তৈরি হয়েছে আর কোন সালে তৈরি হয়েছে সেটা বোঝা যায়.

HMT ভারতের একমাত্র কোম্পানি যে ঘড়ির প্রত্যেকটা পার্টস ইন হাউস ম্যানুফ্যাকচারিং করতো, এমন কি হেয়ার স্প্রিং এন্ড ব্যালান্স স্টাফও. ভারতে এখনো কোনো কোম্পানি নেই যারা হেয়ার স্প্রিং তৈরি করতে পারে.


আশি র দশকে টাইটান আসার পর আস্তে আস্তে HMT র পপুলারিটি কমতে থাকে আর একবিংশ শতাব্দী র শুরুতে HMT মুখ থুবড়ে পড়ে. যে কোম্পানি র ঘড়ির জন্যে লোকে সারারাত লাইন এ দাঁড়িয়ে থাকতো, যে ঘড়ি একসময় মানুষের জীবনের মাইলস্টোন মার্ক করতো, সেই ঘড়ি বিক্রি হওয়া আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যায় আর এক এক করে ফ্যাক্টরি গুলো বন্ধ হতে থাকে. ২০১৫ তে HMT র বেঙ্গালুরু ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যায়.


প্রাথমিক প্ল্যান ছিল HMT র যে সব স্পেয়ার পার্টস পড়ে আছে, বা যে অবিক্রীত ঘড়িগুলো পড়ে আছে, সেগুলো বিক্রি করে কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া হবে. তাই HMT ওয়াচ ডিভিশন কে সরিয়ে নিয়ে আসা হয় টুলস ডিভিশন এর আন্ডার এ. কিন্তু এবার একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটে, HMT বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে, বিভিন্ন কালেক্টর এর নজর পড়ে HMT র ওপর এবং লোকে HMT কালেক্ট করতে শুরু করে. অবিশাস্য হলেও সত্যি ঘটনা যে HMT শেষ ৫ বছরে যত ঘড়ি বিক্রি করেছে, তার আগের ২০ বছরেও করতে পারেনি.


HMT র ঘড়ি আপনি কিনতে পারেন www.hmtwatches.in এ গিয়ে, অথবা বেঙ্গালুরু তে জালাহালী শোরুম এ বা HMT মিউজিয়াম থেকে.HMT হ্যান্ডউইন্ড, অটোমেটিক এবং কোয়ার্টজ ঘড়ি বিক্রি করতো. পরে নাহয় আর একটা পোস্ট দেবো কিছু পপুলার এবং কিছু রেয়ার HMT মডেল নিয়ে.


২০২১ জানুয়ারী তে HMT পুনরায় ওয়াচ ম্যানুফ্যাকচারিং এর লাইসেন্স পেয়েছে, আর এবছরের প্রতিষ্ঠা দিবস এ কয়েকটি নতুন মডেল ও রিলিজ করেছে.


কিছু HMT ঘড়ির ছবি, বিজ্ঞাপন আর আর্টিকেল দিলাম.

Yours Smart Update24 Team
Yours Smart Update24 Teamhttps://sdsmartupdate24.in
বাংলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে Smart Update24।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

Latest Articles