পতঙ্গের শরীরে গাছের জিন! গাছের দেহ থেকে জিন চুরির ঘটনা এই প্রথম জানা গেল , তোলপাড় বিজ্ঞানী মহলে

পতঙ্গের শরীরে গাছের জিন!  গাছের দেহ থেকে জিন চুরির ঘটনা এই প্রথম জানা গেল , তোলপাড় বিজ্ঞানী মহলে:

শরীর থেকে জিন চুরির নজির কিছু পতঙ্গের রয়েছে। ছত্রাক-ব্যাকেটিরিয়া থেকে জিন চুরি করেছে, এমন উদাহরণও ভুরি ভুরি মজুত। কিন্তু গাছের দেহ থেকে জিন চুরির ঘটনা এই প্রথম জানা গেল। পতঙ্গের শরীরে গাছের জিন!

সম্প্রতি এমনই আলোড়ন ফেলা তথ্য প্রকাশ্যে এনে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছেন একদল বিজ্ঞানী। যাঁদের দাবি, উদ্ভিদ থেকে পতঙ্গের জিন চুরির বৃত্তান্ত এই প্রথম প্রকাশ্যে এল। বোঝা গেল, কড়া রাসায়নিক কীটনাশক প্রয়োগ সত্ত্বেও কেন পতঙ্গকুল বেঁচে যাচ্ছে। আসলে আত্মরক্ষার মূ্‌লে রয়েছে এই জিন। যা নিজের শরীরে আত্মীকরণ করে রক্ষাকবচ তৈরি করে ফেলছে ফসলখেকো পতঙ্গ। সম্প্রতি বিশ্ববন্দিত ‘সেল’ পত্রিকায় এই গবেষণালব্ধ ফল প্রকাশিত হতেই বিজ্ঞানীমহলে শোরগোল। ‘নেচার’ পত্রিকাতেও এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।আবিষ্কারের নেপথ্য কারিগর ‘চাইনিজ অ্যাকাডেমি অফ এগ্রিকালচারাল সায়েন্স’(Chinese Academy of Agricultural Sciences)-এর একদল বিজ্ঞানী।


আরো পোস্ট: International Journal এ স্বীকৃতি পেল এক বাঙালির আবিস্কৃত মহিলা সুরক্ষাকারী জুতা| পড়ুন বিস্তারিত |


কী বলা হয়েছে সেখানে?

হোয়াইট ফ্লাই (সাদা মাছি) বা জাব পোকা। বৈজ্ঞানিক নাম বেমিসিয়া ট্যাবাকি। এই উদ্ভিদভুক পোকার শরীরে পাওয়া গিয়েছে উদ্ভিজ্জ জিন ‘গ্লুকোসাইড মেলোনাইল ট্রান্সফারেজ (Glucoside melonil transferase)।’ যার সাহায্যে পোকাটি উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক ‘ফেনোলিক গ্লাইকোসাইড’ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ফসল ধ্বংসকারী পোকাকে বহু চেষ্টাতেও বাগে আনা যায়নি। বোঝা যায়নি, কীসের বলে তারা এত বলীয়ান। এবার সেই পরাক্রমের পাসওয়ার্ড জানা গেল। জিন চুরি ধরা পড়ল।


বিজ্ঞানীদের দাবি, জিন চুরি গিয়েছিল লক্ষ লক্ষ বছর আগে। তারই দৌলতে হোয়াইট ফ্লাই এমন ভয়ংকর চেহারা নিয়েছে। জিন বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে যে, এই জিন সাদা মাছির ক্রোমোজোমের মধ্যে যুক্ত হয়ে গিয়েছে। সেই কারনেই গাছের তৈরি বিষাক্ত রাসায়নিক ফেনোলিক গ্লুকোসাইড সাদা মাছির কোনও ক্ষতি করতে পারে না।

গবেষণাটিকে ‘যুগান্তকারী’ আখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ভাইরোলজিস্ট ডা. সিদ্ধার্থ জোয়ারদার জানিয়েছেন, সাদা মাছি একাধিক ভাইরাস-ব্যাকটিরিয়ার বাহক। কিন্তু এরা যে সেই জীবাণুকুলের সাহায্য নিয়ে উদ্ভিদের জিন আত্মস্থ করে অজেয় হয়ে উঠেছে, এই তথ্য জীববিজ্ঞান গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Articles